ঢাকা
জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন শিকারীপাড়া ইউনিয়নে, ইছামতি নদীর উত্তর পার্শ্বে পল্লীর ঘনসবুজ গাছপালা, ফল-ফসলের প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যমÐিত ঢাকা-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কলেজ”। ১৯৯২-১৯৯৩
খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে ২৩-০৬-১৯৯৭
খ্রিস্টাব্দ তারিখে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী (বাবর মিয়া) বিএ (অনার্স), এমএসসি (ভূগোল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বীর
মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী (বাবর মিয়া) একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, দানবীর ও সমাজসেবক। তিনি
‘দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রতিষ্ঠাতা ও
সভাপতি, ‘বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য,
‘বারুয়াখালী জামে মসজিদ’ এর একজন দাতা
সদস্য এবং ‘বড়বাড়িল্যা জামে মসজিদ’ এককভাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও দাউদপুর
পোস্ট অফিসে ১০ শতাংশ এবং
শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জন্য তিনি জমি দান করেন।
কলেজের
সামনে অবস্থিত মাঠ একসময় নিচু জমি ছিলো। এ জমির মাটি
ভরাট কাজে তৎকালীন নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, ওয়ার্ল্ডভিশন, ব্র্যাক প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখে।
কলেজের
প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে এলাকায় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবকদের সঙ্গে
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে বিগত ১২-১১-১৯৯৭
খ্রিষ্টাব্দ তারিখে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন
এবং ০১-০৭-২০০১
খ্রিস্টাব্দ তারিখে স্বীকৃতি লাভ করে। এ ছাড়া তার
ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ২০০২ খ্রিস্টাব্দ তারিখে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল হতে এমপিওভুক্তি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা তিনি এককভাবে অর্থায়ন করেন।
২০০৩-২০০৪ শিক্ষাবর্ষ হতে কলেজে ¯œাতক (পাস) কোর্সটি চালুৃ হয়। এ ছাড়াও ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ হতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক
(সম্মান) কোর্সের ‘হিসাববিজ্ঞান’ ও ‘ব্যবস্থাপনা’ বিষয়
দুটি চালু হয়। বর্তমানে কলেজটিতে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিঁজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি- এ
পাঁচটি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে।
কলেজটির
উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক
(পাস) ও স্নাতক
(সম্মান) সহ ছাত্র-ছাত্রীর
সংখ্যা ১,৬০০ জন।
কর্মরত-শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৬০ জন। পর্যাপ্ত
অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষাকার্যক্রম সম্পুর্ণ ডিজিটালাইজেশন হালনাগাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়াও বর্তমান
গভনিংবডি এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের আন্তরিক
প্রচেষ্ঠায় দিন দিন কলেজটি উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।